মেনু

Product image

জলীলুল ক্বদর সাহাবীদের জীবনী

আল্লামা সৈয়দ কামাল আল হোসাইনী আল হায়দারী, শিহাব শাহরিয়ার (অনুবাদক)
0 Reviews
৳ 350 ৳ 245 You save ৳ 105 (30%)
Quantity:
Total Price:

দৃষ্টি আকর্ষণ
১। আলোর উৎস কিংবা ডিভাইসের কারণে বইয়ের প্রকৃত রং কিংবা পরিধি ভিন্ন হতে পারে।

২। যে কোন সময়, প্রকাশক কর্তৃক বইয়ের কাভার পরিবর্তন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পরিবর্তিত কাভারের বই প্রদান করা হবে।

৩। ওয়েবসাইটে কাভারের ছবি আপলোড করার সুবিধার্থে আমরা একটি নিদির্ষ্ট সাইজ ব্যবহার করে থাকি। যেকারণে ওয়েবসাইটে দেওয়া কাভারের ছবির সাইজের সাথে প্রকৃত বইয়ের সাইজ ভিন্ন হতে পারে।

৪। বই অর্ডার করার পূর্বে, অনুগ্রহ পূর্বক আমাদের টার্মস এন্ড কন্ডিশনসগুলো (Terms & Conditions) ভালো করে পড়ে নেওয়ার অনুরোধ রইলো।
বই জলীলুল ক্বদর সাহাবীদের জীবনী
Jalilul Kador Sahabider Jiboni
লেখক আল্লামা সৈয়দ কামাল আল হোসাইনী আল হায়দারী, শিহাব শাহরিয়ার (অনুবাদক)
প্রকাশনী আলে রাসূল পাবলিকেশনস্
আইএসবিএন (ISBN) 978-984-94790-7-9

(০১) হযরত আবু তালিব ১৯
(০২) হযরত হামজা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ৩৭
(০৩) হযরত জাফর ইবনে আবু তালিব ৫১
(০৪) হযরত সালমান আল-মুহাম্মাদী ৬৯
(০৫) হযরত আবু জর আল-গিফারি ৮৩
(০৬) হযরত মিক্বদাদ বিন-আসওয়াদ ১০৩
(০৭) হযরত আম্মার বিন-ইয়াসির ১৫৫
(০৮) হযরত মুস’আব আল-খায়ের ১৩৩
(০৯) হযরত কুমাঈল বিন-যিয়াদ ১৪৭
(১০) হযরত মুখতার আল-সাকাফি ১৬৫
(১১) হযরত মিসাম আল-তাম্মার ১৮৫
(১২) হযরত মালিক আল আশতার ১৯৭
(১৩) হযরত হাবিব বিন-মুজাহির ২১৭
(১৪) হযরত সাঈদ বিন-যুবায়ের ২৩১

 

প্রকাশকের কথা

সকল প্রশংসা সৃষ্টিজগতের প্রতিপালকের প্রতি, যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক। তাঁর বিচারের প্রতি প্রাণ ভরে আস্থা স্থাপনের মাধ্যমেই এই পার্থিব জীবনের সকল যন্ত্রণা, দুঃখ-বেদনা, হতাশা-বঞ্চনা সহ্য করা সহনীয় হয়ে যায়। এবং অজ¯্র কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া সেই মহান অবিনশ্বর রবের প্রতি, যিনি মানুবকূলের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে যুগে যুগে নবী-রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন। কতই না সর্বশক্তিমান তিনি! যার সম্মুখে সমগ্র সৃষ্টিকূল মাথা নত করতে বাধ্য। তিনি এমনই এক করুণাময় সত্ত্বা, যাকে অনুভবের প্রশান্তি দ্বারা সমস্ত অস্থিরতাকে দূরীভূত করা সহজ হয়ে যায়। দূরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হযরত মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (সা.) ও তাঁর পবিত্র পরিবারের প্রতি, যাদেরকে সৃষ্টি না করলে বিশ্বজগতের কোনকিছুই সৃষ্টি করা হত না।
মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন এতই দয়াবান যে, তিনি এ পৃথিবীতে মানুষকে সৃষ্টির পর তাদেরকে হেদায়াতের জন্য নবী-রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন, যারা মানবকূলকে সর্বোচ্চ শাশ্বত ও কল্যাণের পথে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। প্রত্যেক যুগেই এই দুনিয়ায় ঐশ্বরিক নেতৃত্বের উপস্থিতি বিরাজমান ছিল। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) হলেন সেই নবুওয়্যাতের ধারার সর্বশেষ রাসূল। পূর্ণাঙ্গ জীবন-বিধানকে তিনি মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এই দুনিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠিত করে ইহলোক ত্যাগ করেছেন। মানুষের জীবন-ব্যবস্থাকে তিনি এমনভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন যে, আর কোন নবী-রাসূলের প্রয়োজন নেই। তিনি মহান আল্লাহর নির্দেশে মানুষের জন্য সুন্দর জীবন-ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে নির্ধারণ করার সাথে সাথে এর শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে ইমামগণের পরিচিত ও সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। এ মহান ইমামগণই রাসূল (সা.)-এর পরে ইসলামের শিক্ষা বাস্তবায়নের মূল কান্ডারী। একইসাথে, এই ‘ইমাম’ বা অভিভাবকগণকে মান্য করা প্রত্যেক মানব ও জীন জাতির জন্য অবশ্য কর্তব্য। কারন মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন বলেছেনÑ
يَا أَيُّهَا ٱلَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَ وَأُوْلِى ٱلأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِى شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ إِن كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلآخِرِ ذٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً
“হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং আনুগত্য কর রাসূলের ও তোমাদের মধ্যে যারা নির্দেশের অধিকর্তা, তাঁদের। . . . [০৪ সূরা নিসা, আয়াত- ৫৯] হযরত জাবির বিন-আব্দুল্লাহ্ আনসারী থেকে বর্ণিত হয়েছেÑ “এই আয়াতটি যখন অবতীর্ণ হয়, তখন আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলামÑ “হে আল্লাহর রাসূল (সা.), আমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে চিনেছি। এখন উক্ত আয়াত অনুযায়ী ‘ঊলিল আমর’ (وَأُوْلِى ٱلأَمْرِ)-কে চেনা আমাদের জন্য একান্ত প্রয়োজন, কারণ এ আয়াত অনুযায়ী তাঁদেরকে অনুসরণ করা ও তাঁদের আনুগত্য করা আমাদের জন্যে ‘ফরজ’ করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে আপনি আমাদের জন্যে ‘উলিল আমর’ সম্পর্কে বলুন।”
তখন রাসূল (সা.) উত্তরে বললেনÑ “হে জাবির, তাঁরা আমার উত্তরাধিকারী এবং আমার পরবর্তীকালের ইমাম। তাঁদের প্রথম জন আলী ইবনে আবি তালিব। অত:পর পর্যায়ক্রমে হাসান, হুসাইন, আলী ইবনে হুসাইন, মুহাম্মাদ ইবনে আলী (তৌরতে এই ইমামের নাম ‘বাক্বির’ হিসেবে প্রসিদ্ধ) Ñএভাবে মোট বারজন। তুমি বৃদ্ধ বয়সে মুহাম্মাদ বিন-আলী’র সঙ্গে সাক্ষাত লাভ করবে, তাঁকে আমার সালাম পৌঁছে দিও।” [সহিহ্ বুখারী, খন্ড-০৪, পৃ: ১৬৫; সহিহ্ মুসলিম, খন্ড-০৬, পৃ-৩-৪; তারিখে দামেস্ক, খন্ড-০৭, পৃ-১০৩; মাজমাউল বায়ান, খন্ড-০২, পৃ-১৪১।] আল্-বুখারী জাবির বিন-সামারাহ্ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন আমি আল্লাহর রাসূলের (সা.) নিকট হতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেনÑ “বারজন নেতা (আমার পরে) আগমন করবে এবং তাঁরা সবাই ক্বোরাইশ বংশ হতে উদ্ভূত হবে।” [সহিহ্ বুখারী, খন্ড-০৯, পৃ-১০১, কিতাবুল আহকাম, বাব নং-৫১, বাবুল ইসতিখলাফ; সহিহ্ মুসলিম, খন্ড-০৬, পৃ-৩-৪, মিশর প্রিন্ট, তিনি ৮০টি সনদ সহ বিভিন্ন প্রকার শব্দের তারতম্যের মাধ্যমে উক্ত বিষয়ে হাদীস বর্ণনা করেছেন।) সহিহ্ মুসলিম, হাদিস নং-৪৬০০; সহিহ আবি দাউদ, খন্ড-০২, পৃ-২০৭, কিতাব আল্-মাহ্দী; সহিহ্ আত্-তিরমিযি, খন্ড-০২, পৃ-৪৫।] ইবনে হাজার আসকালানী তাঁর স্বীয় গ্রন্থে এভাবে বর্ণনা করেছেন-
তাবারানী জাবির বিন-সামুরাহ্ হতে বর্ণনা দিচ্ছেন যে, রাসূল (সা.) বলেছেন- “আমার পরে বারজন নেতা আগমন করবে, তাঁরা সকলে ক্বোরাইশ বংশের হবেন।” [তারিখে খোলাফা, পৃ-১০; আস্-সাওয়ায়েক আল্-মুহরিক্বা, পৃ-১৮৯।] মুসলিম তাঁর সহিহ্ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেনÑ
আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেনÑ “দ্বীন ইসলাম ধ্বংস হবে না কিয়ামত পর্যন্ত, অথবা বারজন খলিফার আগমন পর্যন্ত, তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইমাম হচ্ছেন আলী ইবনে আবি তালিব, অত:পর হাসান, তারপর হুসাইন, তারপর আলী ইবনে হুসাইন এবং তাঁদের সর্বশেষ হচ্ছেন আল্-মাহ্দী।” [সহিহ্ মুসলিম, খন্ড-০৬, পৃ-৩-৪; সহিহ্ আত্-তিরমিযি, খন্ড-০৩, পৃ-৩৪২।] সুপ্রিয় পাঠক, উপরের উদ্ধৃতি হতে আমাদের নিকট সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ইসলামের শিক্ষা কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের নিকট বাস্তবায়নের জন্য মহান আল্লাহর নির্দেশে ইমামের ধারা অব্যহত থাকার ব্যাপারে সুনিশ্চিত করেছেন। আল্লাহ্ সুবহানাহু তা’য়ালার নির্দেশনা মোতাবেক পবিত্র কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে তাঁদেরকে অনুসরণের জন্য মানুষকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। নেতা বা অভিভাবকের গুরুত্ব এতই অপরিসীম যে, পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে-
يَوْمَ نَدْعُواْ كُلَّ أُنَاسٍ بِإِمَامِهِمْ فَمَنْ أُوتِىَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَأُوْلَـٰئِكَ يَقْرَؤُونَ كِتَابَهُمْ وَلاَ يُظْلَمُونَ فَتِيلاً
“স্মরণ কর, যেদিন আমি প্রত্যেক দলকে ইমামসহ আহ্বান করব, অত:পর যাদেরকে তাদের ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে, তারা নিজেদের আমলনামা পাঠ করবে এবং তাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও জুলুম হবে না।” [সূরা ১৭ বনী ইসরাঈল, আয়াত-৭১।] তাহলে পবিত্র ইমামদেরকে অনুসরণের তাৎপর্য স্পষ্টতর হল, ইমামগণকে অনুসরণ করাÑ স্বয়ং মহান আল্লাহর নির্দেশেরই শামিল। কিন্তু মহান আল্লাহর আহ্বানে যখন মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এই ইহলোক ত্যাগ করেন, তার পরবর্তী সময়কালের ইতিহাসে দেখা যায় যে, এই এগারোজন ইমামকে এ দুনিয়ার অকৃতজ্ঞ মানবসম্প্রদায় নির্মমভাবে শহীদ করেছে। অথচ এ ইমামগণই ছিলেন আল্লাহর হাবীবের তথা হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (সা.)-এর একান্তই প্রতিনিধি এবং তাঁর শিক্ষা বাস্তবায়নের একমাত্র পথিকৃৎ।
প্রিয় পাঠক, চলুন একনজরে দেখে আসি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর পরবর্তীকালীন ‘এগারোজন’ প্রতিনিধি বা ইমামের মৃত্যুর কারণগুলো কী কী ছিল-

প্রথম ইমাম: হযরত আলী ইবনে আবি তালিব
 জীবনকাল: ৬০০-৬৬১ খ্রিষ্টাব্দ।
 শাহাদাতের কারণ: ২১ শে রমজান রাতে কুফার জামে মসজিদে সেজদারত অবস্থায় আর্ব্দু-রহমান ইবনে মুলজিম নামক এক খারিজি গুপ্তঘাতকের বিষাক্ত তরবারির আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন।
 সমাধিস্থল: নাজাফ, ইরাক।

দ্বিতীয় ইমাম: ইমাম হাসান ইবনে আলী
 জীবনকাল: ৬২৫-৬৭০ খ্রিষ্টাব্দ
 শাহাদাতের কারণ: তৎকালীন শাসক মুয়াবিয়্যা ইবনে আবু সুফিয়ানের চক্রান্তে স্বীয় স্ত্রী কর্তৃক বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়।
 সমাধিস্থল: জান্নাতুল বাকি।

তৃতীয় ইমাম: ইমাম হুসাইন ইবনে আলী
 জীবনকাল: ৬২৬-৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ।
 শাহাদাতের কারণ: ইসলামকে পাপিষ্ঠ ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের দখল হতে পুনরুদ্ধার করার চেষ্টায় কারবালার যুদ্ধে শিরচ্ছেদ করে হত্যা করা হয়।
 সমাধিস্থল: কারবালা, ইরাক।

চতুর্থ ইমাম: ইমাম জয়নুল আবেদীন
 জীবনকাল: ৬৫৮/৫৯-৭১২ খ্রিষ্টাব্দ।
 শাহাদাতের কারণ: উমাইয়্যা খলিফা প্রথম আবুল মালেকের নির্দেশে তাঁকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়।
 সমাধিস্থল: জান্নাতুল বাকি।

পঞ্চম ইমাম: ইমাম মুহাম্মাদ আল্-বাকির
 জীবনকাল: ৬৭৭- ৭৩২ খ্রিষ্টাব্দ।
 শাহাদাতের কারণ: উমাইয়্যা খলিফা হিশাম ইবনে আবদুল মালিকের নির্দেশে ইবরাহীম ইবনে ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ কর্তৃক বিষপ্রয়োগে মদীনায় তাঁকে হত্যা করা হয়।
 সমাধিস্থল: জান্নাতুল বাকি।

ষষ্ঠ ইমাম: ইমাম জাফর সাদিক
 জীবনকাল: ৭০২-৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দ।
 শাহাদাতের কারণ: আব্বাসীয় খলিফা আল্-মনসুরের নির্দেশে মদীনায় বিষপ্রয়োগে তাঁকে হত্যা করা হয়।
 সমাধিস্থল: জান্নাতুল বাকি।
সপ্তম ইমাম: ইমাম মূসা আল্-কাজিম
 জীবনকাল: ৭৪৪-৭৯৯ খ্রিষ্টাব্দ।
 শাহাদাতের কারণ: আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের নির্দেশে বাগদাদে তাঁকে কারাবন্দী করা হয় এবং বিষপ্রয়োগ করে হত্যা করা হয়।
 সমাধিস্থল: আল্-কাজিমিয়্যা মসজিদ, বাগদাদ, ইরাক।

অষ্টম ইমাম: ইমাম আলী রেযা
 জীবনকাল: ৭৬৫-৮১৭ খ্রিষ্টাব্দ।
 শাহাদাতের কারণ: আল্-মামুনের নির্দেশে পারস্যের মাশহাদে বিষপ্রয়োগ করে তাঁকে হত্যা করা হয়।
 সমাধিস্থল: মাশহাদ, ইরান।

নবম ইমাম: ইমাম মুহাম্মাদ আত্-তাক্বী
 জীবনকাল: ৮১০-৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দ।
 শাহাদাতের কারণ: খলিফা আল্-মুতাসিমের নির্দেশে আল্-মামুনের কণ্যা ও স্বীয় স্ত্রী কর্তৃক বিষপ্রয়োগ করে তাঁকে হত্যা করা হয়।
 সমাধিস্থল: বাগদাদ, ইরাক।

দশম ইমাম: ইমাম আলী আন্-নাক্বী
 জীবনকাল: ৮২৭-৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দ।
 শাহাদাতের কারণ: খলিফা আল্-মুতাজের নির্দেশে ইরাকের সামাররায় তাঁকে বিষপ্রয়োগ করে হত্যা করা হয়।
 সমাধিস্থল: সামাররা, ইরাক।

একাদশ ইমাম: ইমাম হাসান আল্-আসকারী
 জীবনকাল: ৮৪৬- ৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দ।
 শাহাদাতের কারণ: ইরাকের সামাররায় খলিফা আল্-মুতামিদের নির্দেশে বিষপ্রয়োগ করে তাঁকে হত্যা করা হয়।
 সমাধিস্থল: সামাররা, ইরাক।

দ্বাদশ ইমাম: ইমাম মুহাম্মাদ আল্-মাহ্দী (আ.)
 জীবনকাল: ২৫৫ খ্রি. – বর্তমান। বর্তমান যুগের ইমাম। আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর পক্ষ হতে বর্তমান সময়ে এই দুনিয়ার প্রতিনিধি।
 বর্তমান অবস্থান: ঐতিহাসিক তত্ত্বমতে, তিনি ৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দ হতে ‘গায়বত’ বা সমাবরণে চলে গিয়েছেন এবং আল্লাহর নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এ অবস্থাতেই থাকবেন।

সুপ্রিয় পাঠক, আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর পরবর্তীকালীন ১২ জন প্রতিনিধি বা ইমামের মধ্যে বর্তমান যুগের ইমাম ব্যতিত বাকি ১১ জন ইমামই শাহাদাতের শিকার হয়েছেন। সুতরাং সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন জাগেÑ
– এই ইমামগণই তো এ দুনিয়ার অভিভাবক, তাহলে তাঁদেরকে হত্যা করা হল কেন?!
– তবে কি তাঁদেরকে সমর্থনদানের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখার জন্য স্ব স্ব সময়কালের মানবসম্প্রদায় কৃতজ্ঞতার পরিচয় দেয় নি?!
– সবাইকেই শাহাদাত বরণ করতে হল?! তাহলে কি মানব সম্প্রদায় সূরা ০৪ নিসা’র ৫৯ নং আয়াতের প্রতি সুবিচার করে নি?!
– মানব সম্প্রদায় কেন তাদের রাসূল (সা.)-এর প্রতিনিধির কথা ভূলে গেল?!
– কেন তাদের ইমামকে অরক্ষিত রাখল?!
– এ ইমামগণের আগমনের ও তাঁদেরকে মান্য করার ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর বাণীকে কি তাহলে মানুষ ভূলে গেল?!
– রাসূল (সা.) যাদেরকে তাঁর পরবর্তী শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিত্ত্ব হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি মানুষের এ কেমন আঁচরণ?!
– যারা জান্নাতের সর্দার তাঁদেরকেও হত্যা করা হল?!
হে আল্লাহ্, তাঁদের হত্যাকারীদের তুমি দোযখের লেলিহান অগ্নিতে দগ্ধ করো।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই, মহান আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর ওয়াদা অনুযায়ী একদল মানুষ তাদের নিজেদের জীবন দিয়ে হলেও রাসূল (সা.)-এর প্রতিনিধিদের প্রতি অনুগত ছিলেন। তৎকালীন সময়গুলোতে যারা প্রকৃতপক্ষে তাদের ইমামগণের আনুগত্য করতেন, তাদেরকেও ইমামগণের হত্যাকারীদের রোষানলের শিকার হতে হয়েছে। অত্র গ্রন্থে সেইসব অঙ্গিকারাবদ্ধ দৃঢ় ঈমাণের অধিকারী এমন কিছু ব্যক্তিত্ত্বের জীবনী সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যারা ছিলেন ইমামগণের একনিষ্ঠ অনুসারী। তাঁরা ছিলেন ইমামগণের লক্ষ্য বাস্তবায়নের সহায়ক। সাইয়্যেদ কামাল আল্-হুসাইনী আল্-হায়দারী তাঁর অসামান্য গবেষণা ও অধ্যয়নের মাধ্যমে আরবি ভাষায় যে জীবনী গ্রন্থ রচনা করেছেন, সেই রচনা হতে বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য এ স্থানে ১৪ জন বিশিষ্ট সাহাবীদের সংক্ষীপ্ত জীবন সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। ইসলামে এসব সাহাবীদের অবদান এতই বেশি যে তাঁদের জীবনী হতে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রয়েছে দৃষ্টান্তমূলক আদর্শ।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হলÑ তাঁরা সর্বদা ইতিহাসে অবহেলিত হয়েছেন। এইসব গণ্যমান্য সাহাবীরা যেন তাঁদের স্ব স্ব সময়ে তাঁদের ইমামগণের পাশে অবস্থান করতে না পারেন সেজন্য তৎকালীন জালিম শাসকেরা তাঁদেরকে কারাবন্দি করে রাখত ও মৃত্যুদন্ড প্রদান করত। এবং এসব ব্যক্তিত্ত্বের ঈমাণদীপ্ত চেতনা যেন মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য তাঁদের সম্পর্কে প্রচার-প্রসারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হত। এভাবে এ মহান মনিষীগণ অবজ্ঞা ও অবহেলিত হয়েছেন। কিন্তু ইসলামের প্রকৃত ইতিহাস জানার জন্য তাঁদের সম্পর্কে অবগত হওয়া আবশ্যক।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে “জলিলুল ক্বদর সাহাবীদের জীবনী” শিরোনামে ১৪ জন মহান সাহাবীর জীবনী সংক্ষীপ্ত পরিসরে প্রকাশের তৌফিক অর্জন করায় মহান আল্লাহর দরবারে অজ¯্র শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। একইসাথে, অত্র বইটি অধ্যয়নকালে যদি এর মধ্যে কোন ভ্রান্তির নমূনা সম্মানিত পাঠকগণের নিকট দৃষ্টিগোচরিত হয়, তবে সেটি আমাদেরকে অবহিত করলে চিরকৃতজ্ঞ হবো।

-বিনীত
প্রকাশক, আলে রাসূল পাবলিকেশন্স।

0  Reviews

0 Overall Rating
5
0
4
0
3
0
2
0
1
0

Product review not available
Similar products

৳ 150
৳ 120
হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ: অন্য...
ড. আমির মুহাম্মদ মাদারি
৳ 120
৳ 96
৳ 250
৳ 222
আশার আলো ইমাম মাহ্দী আলাই...
ওয়াজহুল ক্বামার খান বাস্তাবী
৳ 140
৳ 98
Top